বিষয়বস্তুতে চলুন

বাহরাইন: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

স্থানাঙ্ক: ২৬°৪′৩.০০″ উত্তর ৫০°৩৩′৪.০০″ পূর্ব / ২৬.০৬৭৫০০০° উত্তর ৫০.৫৫১১১১১° পূর্ব / 26.0675000; 50.5511111
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিষয়বস্তু বিয়োগ হয়েছে বিষয়বস্তু যোগ হয়েছে
InternetArchiveBot (আলোচনা | অবদান)
১টি উৎস উদ্ধার করা হল ও ১টি অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হল।) #IABot (v2.0.8
MD sakib9 (আলোচনা | অবদান)
লিঙ্কের পরামর্শ: ৩টি লিঙ্ক যুক্ত করা হয়েছে।
 
(১৪ জন ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত ২০টি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না)
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
{{উইকিউপাত্ত স্থানাঙ্ক}}
{{উইকিউপাত্ত স্থানাঙ্ক}}
{{তথ্যছক রাষ্ট্র
{{Infobox Country
|native_name = <span style="line-height:1.33em;"><big> مملكة البحرين </big><br />''Mamlakat al-Bahrayn''</span>
|native_name = <span style="line-height:1.33em;"><big> مملكة البحرين </big><br />''Mamlakat al-Bahrayn''</span>
|conventional_long_name = <span style="line-height:1.33em;">বাহরাইনের রাজ্য</span>
|conventional_long_name = <span style="line-height:1.33em;">বাহরাইনের রাজ্য</span>
৭০ নং লাইন: ৭০ নং লাইন:
}}
}}


'''বাহরাইন''' [[মধ্যপ্রাচ্য|মধ্যপ্রাচ্যের]] একটি [[দ্বীপ]] [[রাষ্ট্র]]। বাহরাইন [[পারস্য]] উপসাগরের পশ্চিম অংশের ৩৬টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর পূর্বে [[কাতার]] ও পশ্চিমে [[সৌদী আরব]]। সবচেয়ে বড় দ্বীপটিও বাহরাইন নামে পরিচিত এবং এতে দেশটির বৃহত্তম [[শহর]] ও [[রাজধানী]] [[মানামা]] অবস্থিত।
'''বাহরাইন''' [[মধ্যপ্রাচ্য|মধ্যপ্রাচ্যের]] একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ [[দ্বীপ]] [[রাষ্ট্র]]। বাহরাইন [[পারস্য]] উপসাগরের পশ্চিম অংশের ৩৬টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর পূর্বে [[কাতার]] ও পশ্চিমে [[সৌদী আরব]]। সবচেয়ে বড় দ্বীপটিও বাহরাইন নামে পরিচিত এবং এতে দেশটির বৃহত্তম [[শহর]] ও [[রাজধানী]] [[মানামা]] অবস্থিত।


প্রায় ৫,০০০ বছর আগেও বাহরাইন একটি বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। সবসময়ই এটি শক্তিশালী প্রতিবেশীদের অধীনস্থ ছিল। ১৭শ শতকে এটি [[ইরান|ইরানের]] দখলে আসে। ১৭৮৩ সালে মধ্য সৌদী আরবের আল-খলিফা পরিবার নিজেদেরকে বাহরাইনের শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এবং তখন থেকে তারাই দেশটিকে শাসন করে আসছে। ১৯শ শতকের কিছু সন্ধিচুক্তির ফলে যুক্তরাজ্য দেশটির প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব পায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত বাহরাইন ব্রিটিশ প্রভাবাধীন ছিল।
প্রায় ৫,০০০ বছর আগেও বাহরাইন একটি বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। সবসময়ই এটি শক্তিশালী প্রতিবেশীদের অধীনস্থ ছিল। ১৭শ শতকে এটি [[ইরান|ইরানের]] দখলে আসে। ১৭৮৩ সালে মধ্য সৌদী আরবের আল-খলিফা পরিবার নিজেদেরকে বাহরাইনের শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এবং তখন থেকে তারাই দেশটিকে শাসন করে আসছে। ১৯শ শতকের কিছু সন্ধিচুক্তির ফলে যুক্তরাজ্য দেশটির প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব পায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত বাহরাইন ব্রিটিশ প্রভাবাধীন ছিল।
৭৬ নং লাইন: ৭৬ নং লাইন:
বাহরাইনের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি সেখানেই জন্ম-নেওয়া। এছাড়া বাহরাইনে শিয়া মুসলিমদের সংখ্যা সুন্নী মুসলিমদের প্রায় দ্বিগুণ। তবে সুন্নীরা বাহরাইনের সরকার নিয়ন্ত্রণ করেন।
বাহরাইনের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি সেখানেই জন্ম-নেওয়া। এছাড়া বাহরাইনে শিয়া মুসলিমদের সংখ্যা সুন্নী মুসলিমদের প্রায় দ্বিগুণ। তবে সুন্নীরা বাহরাইনের সরকার নিয়ন্ত্রণ করেন।


১৯৩০-এর দশকে বাহরাইন পারস্য উপসাগরের প্রথম দেশ হিসেবে তেল-ভিত্তিক অর্থনীতি গঠন করে, কিন্তু ১৯৮০-র দশকের শুরুর দিকেই এর সমস্ত তেল ফুরিয়ে যায়। তবে দেশটি এই পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই অন্যান্য শিল্পে বিনিয়োগ করে রেখেছিল এবং দেশটির অর্থনীতি এখনও উন্নতি করে যাচ্ছে।
১৯৩০-এর দশকে বাহরাইন [[পারস্য উপসাগর|পারস্য উপসাগরের]] প্রথম দেশ হিসেবে তেল-ভিত্তিক অর্থনীতি গঠন করে, কিন্তু ১৯৮০-র দশকের শুরুর দিকেই এর সমস্ত তেল ফুরিয়ে যায়। তবে দেশটি এই পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই অন্যান্য শিল্পে বিনিয়োগ করে রেখেছিল এবং দেশটির অর্থনীতি এখনও উন্নতি করে যাচ্ছে।বাহারাইনি দিনার বিশ্বের দ্বিতীয় সব থেকে দামি মুদ্রা।


== ইতিহাস ==
== ইতিহাস ==
[[চিত্র:AradFort.jpg|থাম্ব|আড়াদে আরাদ দুর্গ; পর্তুগিজদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পূর্বে নির্মিত হয়েছিল।]]
বর্তমান বাহরাইন অঞ্চলে ব্রোঞ্জ যুগে দিলমুন নামক সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল। ৫ হাজার বছর আগেও বাহরাইন সিন্ধু অববাহিকা ও মেসোপটেমিয়ার সভ্যতাগুলির মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২০০০ অব্দের দিকে ভারত থেকে বাণিজ্য আসা বন্ধ হয়ে গেলে দিলমুন সভ্যতার পতন ঘটা শুরু করে। ৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে আসিরীয় রাজার বাহরাইনকে ক্রমাগত নিজেদের বলে দাবী করতে শুরু করে। ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কিছু পরে দিলমুন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। এরপর অনেক দিন যাবৎ বাহরাইনের কোন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না। খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে পারস্য উপসাগরে মহাবীর আলেকজান্ডারের পদার্পণ ঘটলে আবার এর হদিস পাওয়া যায়। যদিও আরব গোত্র বনি ওয়াএল এবং পারসিক গভর্নরেরা অঞ্চলটি শাসন করতেন, খ্রিস্টীয় ৭ম শতক পর্যন্তও এটি গ্রিক নাম তিলোস (Tylos) নামে পরিচিত ছিল। ঐ শতকে এখানকার অধিবাসীরা ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। বাহরাইন ছিল আঞ্চলিক বাণিজ্য ও মুক্তা আহরণ কেন্দ্র। ৭ম শতক থেকে বিভিন্ন পর্বে এলাকাটি সিরিয়ার উমাইয়া বংশীয় খলিফাগণ, বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফাগণ, পারসিক, ওমানি এবং পর্তুগিজদের দ্বারা শাসিত হয়। শেষ পর্যন্ত বনি উতবাহ গোত্রের আল খালিফা পরিবার ১৭৮৩ সালে ইরানীদের কাছ থেকে অঞ্চলটি দখল করে এবং তখন থেকে আজ পর্যন্ত তারা বাহরাইনের শাসক।
বর্তমান বাহরাইন অঞ্চলে [[ব্রোঞ্জ যুগ|ব্রোঞ্জ যুগে]] [[দিলমুন]] নামক সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল। ৫ হাজার বছর আগেও বাহরাইন সিন্ধু অববাহিকা ও মেসোপটেমিয়ার সভ্যতাগুলির মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২০০০ অব্দের দিকে ভারত থেকে বাণিজ্য আসা বন্ধ হয়ে গেলে দিলমুন সভ্যতার পতন ঘটা শুরু করে। ৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে আসিরীয় রাজার বাহরাইনকে ক্রমাগত নিজেদের বলে দাবী করতে শুরু করে। ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কিছু পরে দিলমুন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। এরপর অনেক দিন যাবৎ বাহরাইনের কোন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না। খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে পারস্য উপসাগরে মহাবীর আলেকজান্ডারের পদার্পণ ঘটলে আবার এর হদিস পাওয়া যায়। যদিও আরব গোত্র বনি ওয়াএল এবং পারসিক গভর্নরেরা অঞ্চলটি শাসন করতেন, খ্রিস্টীয় ৭ম শতক পর্যন্তও এটি গ্রিক নাম তিলোস (Tylos) নামে পরিচিত ছিল। ঐ শতকে এখানকার অধিবাসীরা ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। বাহরাইন ছিল আঞ্চলিক বাণিজ্য ও মুক্তা আহরণ কেন্দ্র। ৭ম শতক থেকে বিভিন্ন পর্বে এলাকাটি সিরিয়ার উমাইয়া বংশীয় খলিফাগণ, বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফাগণ, পারসিক, ওমানি এবং পর্তুগিজদের দ্বারা শাসিত হয়। শেষ পর্যন্ত বনি উতবাহ গোত্রের আল খালিফা পরিবার ১৭৮৩ সালে ইরানীদের কাছ থেকে অঞ্চলটি দখল করে এবং তখন থেকে আজ পর্যন্ত তারা বাহরাইনের শাসক।


১৮৩০-এর দশকে আল খালিফা পরিবার একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাহরাইনকে একটি ব্রিটিশ প্রটেক্টোরেটে পরিণত করে, অর্থাৎ যুক্তরাজ্য বহিরাক্রমণ থেকে দেশটির সুরক্ষার দায়িত্ব নেয় এবং এর বিনিময়ে বাহরাইন যুক্তরাজ্যের অনুমতি ছাড়া অন্য কোন বিদেশী শক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ হারায়। বাহরাইনে বড় আকারে খনিজ তেলের উৎপাদন শুরু হবার কিছু পরেই ১৯৩৫ সালে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটিটি বাহরাইনে নিয়ে আসা হয়।
১৮৩০-এর দশকে আল খালিফা পরিবার একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাহরাইনকে একটি ব্রিটিশ প্রটেক্টোরেটে পরিণত করে, অর্থাৎ যুক্তরাজ্য বহিরাক্রমণ থেকে দেশটির সুরক্ষার দায়িত্ব নেয় এবং এর বিনিময়ে বাহরাইন যুক্তরাজ্যের অনুমতি ছাড়া অন্য কোন বিদেশী শক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ হারায়। বাহরাইনে বড় আকারে খনিজ তেলের উৎপাদন শুরু হবার কিছু পরেই ১৯৩৫ সালে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটিটি বাহরাইনে নিয়ে আসা হয়।


১৯৬৮ সালে যুক্তরাজ্য সরকার পারস্য উপসাগরের শেখশাসিত রাজ্যগুলির সাথে ইতোমধ্যে করা চুক্তিগুলি রদ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় বাহরাইন কাতার এবং বর্তমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৭টি শেখরাজ্যের সাথে মিলে একটি বৃহৎ সংযুক্ত আরব আমিরাত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ১৯৭১ সাল নাগাদ এই নয় রাজ্য সংযুক্তিকরণের বিভিন্ন ব্যাপারে একমত হতে পারেনি। ফলে ১৯৭১ সালের ১৫ই আগস্ট বাহরাইন একক রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
১৯৬৮ সালে যুক্তরাজ্য সরকার পারস্য উপসাগরের শেখশাসিত রাজ্যগুলির সাথে ইতোমধ্যে করা চুক্তিগুলি রদ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় বাহরাইন কাতার এবং বর্তমান [[সংযুক্ত আরব আমিরাত]]<nowiki/>ের ৭টি শেখরাজ্যের সাথে মিলে একটি বৃহৎ সংযুক্ত আরব আমিরাত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ১৯৭১ সাল নাগাদ এই নয় রাজ্য সংযুক্তিকরণের বিভিন্ন ব্যাপারে একমত হতে পারেনি। ফলে ১৯৭১ সালের ১৫ই আগস্ট বাহরাইন একক রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।


নতুন রাষ্ট্র বাহরাইনের জন্য একটি সংবিধান রচনা করা হয় এবং ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচিত হয়, কিন্তু মাত্র দুই বছর পরে ১৯৭৫ সালে বাহরাইনের আমির সংসদ ভেঙে দেন, কেননা নির্বাচিত সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আল-খলিফা শাসনের অবসান এবং মার্কিন নৌবাহিনীকে সেখান থেকে বিতাড়নের প্রচেষ্টা করছিল।
নতুন রাষ্ট্র বাহরাইনের জন্য একটি সংবিধান রচনা করা হয় এবং ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচিত হয়, কিন্তু মাত্র দুই বছর পরে ১৯৭৫ সালে বাহরাইনের আমির সংসদ ভেঙে দেন, কেননা নির্বাচিত সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আল-খলিফা শাসনের অবসান এবং মার্কিন নৌবাহিনীকে সেখান থেকে বিতাড়নের প্রচেষ্টা করছিল।
৯৭ নং লাইন: ৯৮ নং লাইন:


== ভূগোল ==
== ভূগোল ==
বাহরাইন রাষ্ট্রটি আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে ২৪ কিমি দূরে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ৩২টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাষ্ট্র। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দ্বীপটির নাম বাহরাইন দ্বীপ। দ্বীপটির বেশির ভাগ অংশ মরুময় ঊষর নিম্নভূমি। কেবল উত্তরের উপকূলে এক চিলতে সমভূমি আছে যেখানে রাজধানী মানামা অবস্থিত।
বাহরাইন রাষ্ট্রটি [[আরব উপদ্বীপ|আরব উপদ্বীপের]] পূর্ব উপকূল থেকে ২৪ কিমি দূরে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ৩২টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাষ্ট্র। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দ্বীপটির নাম বাহরাইন দ্বীপ। দ্বীপটির বেশির ভাগ অংশ মরুময় ঊষর নিম্নভূমি। কেবল উত্তরের উপকূলে এক চিলতে সমভূমি আছে যেখানে রাজধানী [[মানামা]] অবস্থিত।


== অর্থনীতি ==
== অর্থনীতি ==
১০৭ নং লাইন: ১০৮ নং লাইন:
==জনমিতি==
==জনমিতি==
[[File:Joining in prayer - Flickr - Al Jazeera English.jpg|thumb|মানামায় নামাজরত বাহরাইনি শিয়া মুসলমানেরা]]
[[File:Joining in prayer - Flickr - Al Jazeera English.jpg|thumb|মানামায় নামাজরত বাহরাইনি শিয়া মুসলমানেরা]]
২০১০ সালে বাহরাইনের জনসংখ্যা ১.২ মিলিয়ন হয়ে দাঁড়ায় যার মধ্যে ৫৬৮,৩৯৯ জন বাহরাইনি নাগরিক এবং ৬৬৬,১৭২ জন অনাগরিক।<ref name="2010-census" /> ২০০৭ সালে তা ১.০৫ মিলিয়ন (৫১৭,৩৬৮ অনাগরিক) অতিক্রম করে।<ref name="Ref_2008c">{{cite web|url=http://gulfnews.com/news/gulf/bahrain/bahrain-s-population-crossed-1m-in-december-1.86848|title=Bahrain's population crossed 1m in December|publisher=Gulfnews.com|date=28 February 2008|accessdate=3 June 2012}}</ref> ২০২০ সালের জানুয়ারি নাগাদ বাহরাইনের জনসংখ্যা ১.৬৯ মিলিয়নেরও উপরে গিয়ে দাঁড়ায়।<ref>{{cite web |url=https://www.worldometers.info/world-population/bahrain-population/}}</ref> যদিও জনসংখ্যার অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের লোক, তথাপি বাহরাইনিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দক্ষিণ এশীয়। ২০০৮ সালে প্রায় ২৯০,০০০ ভারতীয় নাগরিক বাহরাইনে বসবাস করেন, যা তাদের দেশটির একক বৃহত্তম প্রবাসী জনগোষ্ঠীতে পরিণত করে। এদের বেশিরভাগই ভারতের [[কেরল]] রাজ্য থেকে আগত।<ref name="Ref_2008d">{{cite web|url=http://www.gulf-daily-news.com/NewsDetails.aspx?storyid=222148 |title=290,000 Indians in Bahrain |publisher=Gulf-daily-news.com |date=5 July 2008 |accessdate=27 June 2010}}</ref><ref name="IndEmb">{{cite web |url=http://www.indianembassybahrain.com/indian_community.html |title=Indian Community |publisher=Indian Embassy |accessdate=6 March 2012 |archive-url=https://web.archive.org/web/20120307050746/http://www.indianembassybahrain.com/indian_community.html |archive-date=7 March 2012 |url-status=dead }}</ref> বাহরাইন বিশ্বের চতুর্থ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যার জনসংখ্যার ঘনত্ব ২০১০ সালে ছিল প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,৬৪৬ জন।<ref name="2010-census" /> জনসংখ্যার একটি বড় অংশই দেশটির উত্তরাঞ্চলে বসবাস করে, দক্ষিণাঞ্চল তুলনামূলক কম জনবহুল।<ref name="2010-census"/> দেশটির উত্তরাঞ্চল এতটাই নগরায়িত যে অনেকে একে একটি বৃহৎ মেট্রোপলিটন এলাকা বলে বিবেচনা করে।<ref>{{cite web |url=http://www.world-gazetteer.com/wg.php?x=&men=gcis&lng=en&des=wg&geo=-33&srt=npan&col=abcdefghinoq&msz=1500&va=&pt=a |title=Bahrain: metropolitan areas |publisher=World Gazetteer |সংগ্রহের-তারিখ=১ অক্টোবর ২০২০ |আর্কাইভের-তারিখ=২৩ জুলাই ২০১৩ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20130723071612/http://www.world-gazetteer.com/wg.php?x=&men=gcis&lng=en&des=wg&geo=-33&srt=npan&col=abcdefghinoq&msz=1500&va=&pt=a |ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর }}</ref>
২০১০ সালে বাহরাইনের জনসংখ্যা ১.২ মিলিয়ন হয়ে দাঁড়ায় যার মধ্যে ৫৬৮,৩৯৯ জন বাহরাইনি নাগরিক এবং ৬৬৬,১৭২ জন অনাগরিক।<ref name="2010-census" /> ২০০৭ সালে তা ১.০৫ মিলিয়ন (৫১৭,৩৬৮ অনাগরিক) অতিক্রম করে।<ref name="Ref_2008c">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://gulfnews.com/news/gulf/bahrain/bahrain-s-population-crossed-1m-in-december-1.86848|শিরোনাম=Bahrain's population crossed 1m in December|প্রকাশক=Gulfnews.com|তারিখ=28 February 2008|সংগ্রহের-তারিখ=3 June 2012}}</ref> ২০২০ সালের জানুয়ারি নাগাদ বাহরাইনের জনসংখ্যা ১.৬৯ মিলিয়নেরও উপরে গিয়ে দাঁড়ায়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল=https://www.worldometers.info/world-population/bahrain-population/}}</ref> যদিও জনসংখ্যার অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের লোক, তথাপি বাহরাইনিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দক্ষিণ এশীয়। ২০০৮ সালে প্রায় ২৯০,০০০ ভারতীয় নাগরিক বাহরাইনে বসবাস করেন, যা তাদের দেশটির একক বৃহত্তম প্রবাসী জনগোষ্ঠীতে পরিণত করে। এদের বেশিরভাগই ভারতের [[কেরল]] রাজ্য থেকে আগত।<ref name="Ref_2008d">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.gulf-daily-news.com/NewsDetails.aspx?storyid=222148 |শিরোনাম=290,000 Indians in Bahrain |প্রকাশক=Gulf-daily-news.com |তারিখ=5 July 2008 |সংগ্রহের-তারিখ=27 June 2010}}</ref><ref name="IndEmb">{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.indianembassybahrain.com/indian_community.html |শিরোনাম=Indian Community |প্রকাশক=Indian Embassy |সংগ্রহের-তারিখ=6 March 2012 |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20120307050746/http://www.indianembassybahrain.com/indian_community.html |আর্কাইভের-তারিখ=7 March 2012 |ইউআরএল-অবস্থা=dead }}</ref> বাহরাইন বিশ্বের চতুর্থ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যার জনসংখ্যার ঘনত্ব ২০১০ সালে ছিল প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,৬৪৬ জন।<ref name="2010-census" /> জনসংখ্যার একটি বড় অংশই দেশটির উত্তরাঞ্চলে বসবাস করে, দক্ষিণাঞ্চল তুলনামূলক কম জনবহুল।<ref name="2010-census"/> দেশটির উত্তরাঞ্চল এতটাই নগরায়িত যে অনেকে একে একটি বৃহৎ মেট্রোপলিটন এলাকা বলে বিবেচনা করে।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.world-gazetteer.com/wg.php?x=&men=gcis&lng=en&des=wg&geo=-33&srt=npan&col=abcdefghinoq&msz=1500&va=&pt=a |শিরোনাম=Bahrain: metropolitan areas |প্রকাশক=World Gazetteer |সংগ্রহের-তারিখ=১ অক্টোবর ২০২০ |আর্কাইভের-তারিখ=২৩ জুলাই ২০১৩ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20130723071612/http://www.world-gazetteer.com/wg.php?x=&men=gcis&lng=en&des=wg&geo=-33&srt=npan&col=abcdefghinoq&msz=1500&va=&pt=a |ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর }}</ref>


===জাতিগোষ্ঠী===
===জাতিগোষ্ঠী===
বাহরাইনিরা জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময়। [[শিয়া ইসলাম|শিয়া]] বাহরাইনিরা দুটি প্রধান জাতিগোষ্ঠীতে বিভক্ত: বাহরানা এবং আজম। বাহরানারা হল [[আরব জাতি|আরব]] শিয়া, অন্যদিকে আজমরা হল [[পারস্য|পারসিক]] শিয়া। মানামা ও মুহররকের জনসাধারণের বড় অংশই পারসিক শিয়া। শিয়া বাহরাইনিদের একটি ক্ষুদ্র অংশ হল আল-হাসা অঞ্চলের হাওয়াসি জনগোষ্ঠী।
বাহরাইনিরা জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময়। [[শিয়া ইসলাম|শিয়া]] বাহরাইনিরা দুটি প্রধান জাতিগোষ্ঠীতে বিভক্ত: বাহরানা এবং আজম। বাহরানারা হল [[আরব জাতি|আরব]] শিয়া, অন্যদিকে আজমরা হল [[পারস্য|পারসিক]] শিয়া। মানামা ও মুহররকের জনসাধারণের বড় অংশই পারসিক শিয়া। শিয়া বাহরাইনিদের একটি ক্ষুদ্র অংশ হল আল-হাসা অঞ্চলের হাওয়াসি জনগোষ্ঠী।


[[সুন্নি ইসলাম|সুন্নি]] বাহরাইনিরাও মূলত দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত: আরব ও হুওয়ালা। আরব সুন্নিরা বাহরাইনের সবচেয়ে প্রভাবশালী জাতিগোষ্ঠী, তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত এবং বাহরাইনি রাজতন্ত্রও আরব সুন্নিদের নিয়ন্ত্রণাধীন। সুন্নি আরবেরা ঐতিহ্যগতভাবে জাল্লাক, মুহররক, রিফা ও হাওয়ার দ্বীপসমূহে বসবাস করে আসছে। হুওয়ালারা হল ইরানি সুন্নিদের বংশধর; তাদের কেউ কেউ পারসিক সুন্নি,<ref name=mig>{{cite web |url=https://theses.ncl.ac.uk/dspace/bitstream/10443/730/1/Taqi10.pdf |title=Two ethnicities, three generations: Phonological variation and change in Kuwait |work=[[Newcastle University]] |year=2010 |page=11 |access-date=20 February 2014 |archive-url=https://web.archive.org/web/20131019130212/https://theses.ncl.ac.uk/dspace/bitstream/10443/730/1/Taqi10.pdf |archive-date=19 October 2013 |url-status=dead }}</ref><ref>[https://books.google.com/books?id=bJLjAKH7-rIC&pg=PA135 Dialect, Culture, and Society in Eastern Arabia: Glossary]. Clive Holes. 2001. Page 135. {{ISBN|90-04-10763-0}}</ref> আর বাকিরা আরব সুন্নি।<ref>Rentz, "al- Baḥrayn.":</ref><ref>Rentz, G. "al- Kawāsim." Encyclopaedia of Islam. Edited by: P. Bearman, Th. Bianquis, C.E. Bosworth, E. van Donzel and W.P. Heinrichs. Brill, 2008. Brill Online. 15 March 2008 [http://www.brillonline.nl/subscriber/entry?entry=islam_SIM-4036]{{অকার্যকর সংযোগ|তারিখ=আগস্ট ২০২১ |bot=InternetArchiveBot |ঠিক করার প্রচেষ্টা=yes }}</ref> সুন্নিদের মধ্যে [[বেলুচি ভাষা|বেলুচি জাতিগোষ্ঠীর]] লোকেরাও রয়েছে। আফ্রিকান বাহরাইনিদের অধিকাংশই [[পূর্ব আফ্রিকা]] থেকে আগত এবং ঐতিহ্যগতভাবে মুহররক দ্বীপ ও রিফাতে বসবাস করে।<ref>{{cite web|url=http://www.hoteltravel.com/bahrain/manama/bahrains-rainbow-nation.htm|title=Bahrain's Rainbow Nation in Manama|publisher=HotelTravel.com|access-date=20 February 2014|archive-url=https://web.archive.org/web/20140227153823/http://www.hoteltravel.com/bahrain/manama/bahrains-rainbow-nation.htm|archive-date=27 February 2014|url-status=dead}}</ref>
[[সুন্নি ইসলাম|সুন্নি]] বাহরাইনিরাও মূলত দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত: আরব ও হুওয়ালা। আরব সুন্নিরা বাহরাইনের সবচেয়ে প্রভাবশালী জাতিগোষ্ঠী, তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত এবং বাহরাইনি রাজতন্ত্রও আরব সুন্নিদের নিয়ন্ত্রণাধীন। সুন্নি আরবেরা ঐতিহ্যগতভাবে জাল্লাক, মুহররক, রিফা ও হাওয়ার দ্বীপসমূহে বসবাস করে আসছে। হুওয়ালারা হল ইরানি সুন্নিদের বংশধর; তাদের কেউ কেউ পারসিক সুন্নি,<ref name=mig>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল=https://theses.ncl.ac.uk/dspace/bitstream/10443/730/1/Taqi10.pdf |শিরোনাম=Two ethnicities, three generations: Phonological variation and change in Kuwait |কর্ম=[[Newcastle University]] |বছর=2010 |পাতা=11 |সংগ্রহের-তারিখ=20 February 2014 |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20131019130212/https://theses.ncl.ac.uk/dspace/bitstream/10443/730/1/Taqi10.pdf |আর্কাইভের-তারিখ=19 October 2013 |ইউআরএল-অবস্থা=dead }}</ref><ref>[https://books.google.com/books?id=bJLjAKH7-rIC&pg=PA135 Dialect, Culture, and Society in Eastern Arabia: Glossary]. Clive Holes. 2001. Page 135. {{ISBN|90-04-10763-0}}</ref> আর বাকিরা আরব সুন্নি।<ref>Rentz, "al- Baḥrayn.":</ref><ref>Rentz, G. "al- Kawāsim." Encyclopaedia of Islam. Edited by: P. Bearman, Th. Bianquis, C.E. Bosworth, E. van Donzel and W.P. Heinrichs. Brill, 2008. Brill Online. 15 March 2008 [http://www.brillonline.nl/subscriber/entry?entry=islam_SIM-4036]{{অকার্যকর সংযোগ|তারিখ=আগস্ট ২০২১|bot=InternetArchiveBot|ঠিক করার প্রচেষ্টা=yes}}</ref> সুন্নিদের মধ্যে [[বেলুচি ভাষা|বেলুচি জাতিগোষ্ঠীর]] লোকেরাও রয়েছে। আফ্রিকান বাহরাইনিদের অধিকাংশই [[পূর্ব আফ্রিকা]] থেকে আগত এবং ঐতিহ্যগতভাবে মুহররক দ্বীপ ও রিফাতে বসবাস করে।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.hoteltravel.com/bahrain/manama/bahrains-rainbow-nation.htm|শিরোনাম=Bahrain's Rainbow Nation in Manama|প্রকাশক=HotelTravel.com|সংগ্রহের-তারিখ=20 February 2014|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20140227153823/http://www.hoteltravel.com/bahrain/manama/bahrains-rainbow-nation.htm|আর্কাইভের-তারিখ=27 February 2014|ইউআরএল-অবস্থা=dead}}</ref>


===ধর্ম===
===ধর্ম===
১৩০ নং লাইন: ১৩১ নং লাইন:
{{bar percent|অধার্মিক|black|১.৯}}
{{bar percent|অধার্মিক|black|১.৯}}
}}
}}
বাহরাইনের রাষ্ট্রধর্ম [[ইসলাম]] এবং অধিকাংশ বাহরাইনি মুসলমান। বাহরাইনি মুসলমানদের বেশিরভাগই [[শিয়া ইসলাম|শিয়া]]।<ref name="BBCShia">{{cite news|series=Mapping the Global Muslim Population |url=https://www.bbc.com/news/world-middle-east-25434060|title=Sunnis and Shia in the Middle East|date=December 19, 2013|work=BBC News}}</ref> এটি [[মধ্যপ্রাচ্য]]ের তিনটি শিয়াপ্রধান দেশের অন্যতম, অন্য দুটি দেশ হল [[ইরাক]] ও [[ইরান]]।<ref name="BBCShia"/> ২০১৭ সালের একটি আদমশুমারি অনুযায়ী বাহরাইনি জনগণের ৬২% শিয়া এবং ৩৮% [[সুন্নি ইসলাম|সুন্নি]]।<ref name="Pollock">{{cite web|title=Sunnis and Shia in Bahrain: New Survey Shows Both Conflict and Consensus|url=https://www.washingtoninstitute.org/fikraforum/view/sunnis-and-shia-in-bahrain-new-survey-shows-both-conflict-and-consensus|work=Fikra Forum|publisher=[[Washington Institute for Near East Policy]]|author=David Pollock|date=November 20, 2017}}</ref>
বাহরাইনের রাষ্ট্রধর্ম [[ইসলাম]] এবং অধিকাংশ বাহরাইনি মুসলমান। বাহরাইনি মুসলমানদের বেশিরভাগই [[শিয়া ইসলাম|শিয়া]]।<ref name="BBCShia">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ধারাবাহিক=Mapping the Global Muslim Population |ইউআরএল=https://www.bbc.com/news/world-middle-east-25434060|শিরোনাম=Sunnis and Shia in the Middle East|তারিখ=December 19, 2013|কর্ম=BBC News}}</ref> এটি [[মধ্যপ্রাচ্য]]ের তিনটি শিয়াপ্রধান দেশের অন্যতম, অন্য দুটি দেশ হল [[ইরাক]] ও [[ইরান]]।<ref name="BBCShia"/> ২০১৭ সালের একটি আদমশুমারি অনুযায়ী বাহরাইনি জনগণের ৬২% শিয়া এবং ৩৮% [[সুন্নি ইসলাম|সুন্নি]]।<ref name="Pollock">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Sunnis and Shia in Bahrain: New Survey Shows Both Conflict and Consensus|ইউআরএল=https://www.washingtoninstitute.org/fikraforum/view/sunnis-and-shia-in-bahrain-new-survey-shows-both-conflict-and-consensus|কর্ম=Fikra Forum|প্রকাশক=[[Washington Institute for Near East Policy]]|লেখক=David Pollock|তারিখ=November 20, 2017}}</ref>
{{Pie chart
{{Pie chart
|thumb = right
|thumb = right
১৩৯ নং লাইন: ১৪০ নং লাইন:
|value2 = 38
|value2 = 38
}}
}}
শিয়ারা বাহরাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হলেও রাজপরিবার এবং অভিজাতদের বেশিরভাগই সুন্নি মতাবলম্বী।<ref name="Pollock"/> দেশটির এই প্রধান দুই মুসলিম সম্প্রদায় কিছু ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তীব্র মতবিরোধ ধারণ করে।<ref name="Pollock"/> শিয়ারা প্রায়শই রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অর্থনৈতিক প্রান্তীকরণের অভিযোগ তুলেছে; ফলে ২০১১ সালের বাহরাইনি অভ্যুত্থানের অধিকাংশ বিক্ষোভকারীই ছিল শিয়া।<ref>{{cite web|newspaper=Financial Times|url=https://www.ft.com/content/51472a00-9b26-11e8-88de-49c908b1f264|title=Shia complain of exclusion from Bahrain's political process|date=October 3, 2018|author=Andrew England}}</ref><ref>{{cite web|newspaper=Financial Times|url=https://www.ft.com/content/f9691dac-bb64-11e8-94b2-17176fbf93f5|title=Bahrain's Shia loath to give Sunni rulers election credibility|date=October 1, 2018|author=Andrew England & Simeon Kerr}}</ref><ref>{{cite web|url=https://www.economist.com/middle-east-and-africa/2018/11/24/an-unfair-election-in-bahrain-will-not-satisfy-the-shia-majority|title=An unfair election in Bahrain will not satisfy the Shia majority|newspaper=Economist|date=November 22, 2018}}</ref>
শিয়ারা বাহরাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হলেও রাজপরিবার এবং অভিজাতদের বেশিরভাগই সুন্নি মতাবলম্বী।<ref name="Pollock"/> দেশটির এই প্রধান দুই মুসলিম সম্প্রদায় কিছু ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তীব্র মতবিরোধ ধারণ করে।<ref name="Pollock"/> শিয়ারা প্রায়শই রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অর্থনৈতিক প্রান্তীকরণের অভিযোগ তুলেছে; ফলে ২০১১ সালের বাহরাইনি অভ্যুত্থানের অধিকাংশ বিক্ষোভকারীই ছিল শিয়া।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|সংবাদপত্র=Financial Times|ইউআরএল=https://www.ft.com/content/51472a00-9b26-11e8-88de-49c908b1f264|শিরোনাম=Shia complain of exclusion from Bahrain's political process|তারিখ=October 3, 2018|লেখক=Andrew England}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|সংবাদপত্র=Financial Times|ইউআরএল=https://www.ft.com/content/f9691dac-bb64-11e8-94b2-17176fbf93f5|শিরোনাম=Bahrain's Shia loath to give Sunni rulers election credibility|তারিখ=October 1, 2018|লেখক=Andrew England & Simeon Kerr}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.economist.com/middle-east-and-africa/2018/11/24/an-unfair-election-in-bahrain-will-not-satisfy-the-shia-majority|শিরোনাম=An unfair election in Bahrain will not satisfy the Shia majority|সংবাদপত্র=Economist|তারিখ=November 22, 2018}}</ref>


২০১০ সালের আদমশুমারি মতে, বাহরাইনের মুসলিম জনসংখ্যা ৮৬৬,৮৮৮।
২০১০ সালের আদমশুমারি মতে, বাহরাইনের মুসলিম জনসংখ্যা ৮৬৬,৮৮৮।


বাহরাইনে স্থানীয় [[খ্রিস্টান]] সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। ২০১০ সালের শুমারি অনুযায়ী অমুসলিম বাহরাইনিদের সংখ্যা ৩৬৭,৬৮৩, যাদের বেশিরভাগই [[খ্রিস্টধর্ম]]াবলম্বী।<ref name=2010Census>{{cite web|url=http://www.census2010.gov.bh/results_en.php|title=2010 Census Results|accessdate=15 June 2012|archive-url=https://web.archive.org/web/20120320104234/http://www.census2010.gov.bh/results_en.php|archive-date=20 March 2012|url-status=dead}}</ref> বাহরাইনের খ্রিস্টানদের বড় অংশই প্রবাসী, স্থানীয় খ্রিস্টান বাহরাইনিরা সে তুলনায় সংখ্যালঘু। [[যুক্তরাজ্য]]ে নিযুক্ত সাবেক বাহরাইনি রাষ্ট্রদূত আলীদ সামান একজন স্থানীয় খ্রিস্টান। বাহরাইনে একটি ক্ষুদ্র স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ও রয়েছে যাদের সংখ্যা ৩৭।<ref name="Yaar">{{cite news |url=http://www.israelnationalnews.com/News/News.aspx/140873 |title=King of Bahrain Appoints Jewish Woman to Parliament |author=Chana Ya'ar |publisher=Arutz Sheva |date=28 November 2010 |accessdate=28 November 2010}}</ref> বিভিন্ন সূত্রমতে বাহরাইনি ইহুদিদের সংখ্যা ৩৬ থেকে ৫০।<ref>{{cite news |title= Bahrain defends contacts with US Jewish body |author=Habib Toumi |url=http://www.gulfnews.com/region/Bahrain/10115853.html |newspaper=gulfnews.com |date=4 April 2007 }}</ref> বাহরাইনি লেখিকা ন্যান্সি খেদুরির মতে, বাহরাইনের ইহুদি সম্প্রদায় পৃথিবীর অন্যতম নবীন জনগোষ্ঠী। ১৮৮০-র দশকে তৎকালীন ইরাক ও ইরান থেকে বাহরাইন দ্বীপে অভিবাসন করা কয়েকটি ইহুদি পরিবার থেকে এই জনগোষ্ঠীর উৎপত্তিলাভ করে।<ref>{{Cite book|last=Khedouri, Nancy Elly.|url=https://www.worldcat.org/oclc/164870788|title=From our beginning to present day--|date=2007|publisher=Al Manar Press|isbn=978-99901-26-04-4|location=Bahrain|oclc=164870788}}</ref>
বাহরাইনে স্থানীয় [[খ্রিস্টান]] সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। ২০১০ সালের শুমারি অনুযায়ী অমুসলিম বাহরাইনিদের সংখ্যা ৩৬৭,৬৮৩, যাদের বেশিরভাগই [[খ্রিস্টধর্ম]]াবলম্বী।<ref name=2010Census>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.census2010.gov.bh/results_en.php|শিরোনাম=2010 Census Results|সংগ্রহের-তারিখ=15 June 2012|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20120320104234/http://www.census2010.gov.bh/results_en.php|আর্কাইভের-তারিখ=20 March 2012|ইউআরএল-অবস্থা=dead}}</ref> বাহরাইনের খ্রিস্টানদের বড় অংশই প্রবাসী, স্থানীয় খ্রিস্টান বাহরাইনিরা সে তুলনায় সংখ্যালঘু। [[যুক্তরাজ্য]]ে নিযুক্ত সাবেক বাহরাইনি রাষ্ট্রদূত আলীদ সামান একজন স্থানীয় খ্রিস্টান। বাহরাইনে একটি ক্ষুদ্র স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ও রয়েছে যাদের সংখ্যা ৩৭।<ref name="Yaar">{{সংবাদ উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.israelnationalnews.com/News/News.aspx/140873 |শিরোনাম=King of Bahrain Appoints Jewish Woman to Parliament |লেখক=Chana Ya'ar |প্রকাশক=Arutz Sheva |তারিখ=28 November 2010 |সংগ্রহের-তারিখ=28 November 2010}}</ref> বিভিন্ন সূত্রমতে বাহরাইনি ইহুদিদের সংখ্যা ৩৬ থেকে ৫০।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |শিরোনাম= Bahrain defends contacts with US Jewish body |লেখক=Habib Toumi |ইউআরএল=http://www.gulfnews.com/region/Bahrain/10115853.html |সংবাদপত্র=gulfnews.com |তারিখ=4 April 2007 }}</ref> বাহরাইনি লেখিকা ন্যান্সি খেদুরির মতে, বাহরাইনের ইহুদি সম্প্রদায় পৃথিবীর অন্যতম নবীন জনগোষ্ঠী। ১৮৮০-র দশকে তৎকালীন ইরাক ও ইরান থেকে বাহরাইন দ্বীপে অভিবাসন করা কয়েকটি ইহুদি পরিবার থেকে এই জনগোষ্ঠীর উৎপত্তিলাভ করে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=Khedouri, Nancy Elly.|ইউআরএল=https://www.worldcat.org/oclc/164870788|শিরোনাম=From our beginning to present day--|তারিখ=2007|প্রকাশক=Al Manar Press|আইএসবিএন=978-99901-26-04-4|অবস্থান=Bahrain|oclc=164870788}}</ref>
[[File:Gudaibiya Mosque.jpg|thumb|[[মানামা]]র গুদাইবিয়া মসজিদ]]
[[File:Gudaibiya Mosque.jpg|thumb|[[মানামা]]র গুদাইবিয়া মসজিদ]]


সাএশীয় দেশসমূহ থেকে, বিশেষত [[ভারত]], [[ফিলিপাইন]] ও [[শ্রীলঙ্কা]] থেকে, আগত অভিবাসী কর্মীদের ক্রমাগত আগমনের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাহরাইনের সামগ্রিক মুসলিম সংখ্যার হার হ্রাস পেয়েছে। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, বাহরাইনের জনসংখ্যার ৮১.২% মুসলমান, ১০% খ্রিস্টান এবং ৯.৮% [[হিন্দু]] ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।<ref name = "CIA"/><ref name="2010-census"/> বাহরাইনের জনসংখ্যার ১% [[বাহাই ধর্ম]]াবলম্বী।<ref>{{cite web|url=http://www.bahairights.org/2008/09/22/roundup/|title=Roundup on status of Baha'is in Muslim-majority countries |publisher=The Muslim Network for Baha'i Rights |accessdate=26 August 2013}}</ref>
সাএশীয় দেশসমূহ থেকে, বিশেষত [[ভারত]], [[ফিলিপাইন]] ও [[শ্রীলঙ্কা]] থেকে, আগত অভিবাসী কর্মীদের ক্রমাগত আগমনের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাহরাইনের সামগ্রিক মুসলিম সংখ্যার হার হ্রাস পেয়েছে। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, বাহরাইনের জনসংখ্যার ৮১.২% মুসলমান, ১০% খ্রিস্টান এবং ৯.৮% [[হিন্দু]] ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।<ref name="2010-census"/><ref name = "CIA"/> বাহরাইনের জনসংখ্যার ১% [[বাহাই ধর্ম]]াবলম্বী।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.bahairights.org/2008/09/22/roundup/|শিরোনাম=Roundup on status of Baha'is in Muslim-majority countries|প্রকাশক=The Muslim Network for Baha'i Rights|সংগ্রহের-তারিখ=26 August 2013|আর্কাইভের-তারিখ=৩ ডিসেম্বর ২০১৩|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20131203141510/http://www.bahairights.org/2008/09/22/roundup/|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref>


===ভাষা===
===ভাষা===
১৬৮ নং লাইন: ১৬৯ নং লাইন:
==পরিবহন==
==পরিবহন==
'''[[বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর]]''' শহরের তথা দেশের প্রধান ও ব্যস্ততম বিমানবন্দর। এটি অন্যতম হাব বিমানবন্দর।
'''[[বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর]]''' শহরের তথা দেশের প্রধান ও ব্যস্ততম বিমানবন্দর। এটি অন্যতম হাব বিমানবন্দর।

== আরও দেখুন ==
* [[হালা আল তুরক]]
* [[দিমা বাশার]]


== তথ্যসূত্র ==
== তথ্যসূত্র ==
১৮০ নং লাইন: ১৭৭ নং লাইন:
{{উইকিভ্রমণ|বাহরাইন}}
{{উইকিভ্রমণ|বাহরাইন}}
* [https://web.archive.org/web/20180807062923/http://bahrainona.com/ বাহরাইন তথ্য ওয়েবসাইট]
* [https://web.archive.org/web/20180807062923/http://bahrainona.com/ বাহরাইন তথ্য ওয়েবসাইট]
* [http://www.e.gov.bh বাহরাইনের রাজ্য] সরকারী ওয়েবসাইট।
* [http://www.e.gov.bh বাহরাইনের রাজ্য] সরকারি ওয়েবসাইট।
* [https://web.archive.org/web/20091026202002/https://www.cia.gov/library/publications/world-leaders-1/world-leaders-b/bahrain.html রাষ্ট্র প্রধান এবং মন্ত্রিপরিষদ সদসবৃন্দ]
* [https://web.archive.org/web/20091026202002/https://www.cia.gov/library/publications/world-leaders-1/world-leaders-b/bahrain.html রাষ্ট্র প্রধান এবং মন্ত্রিপরিষদ সদসবৃন্দ]
* [http://news.bbc.co.uk/1/hi/world/middle_east/country_profiles/790690.stm দেশ বৃত্তান্ত] [[বিবিসি সংবাদ]] থেকে
* [http://news.bbc.co.uk/1/hi/world/middle_east/country_profiles/790690.stm দেশ বৃত্তান্ত] [[বিবিসি সংবাদ]] থেকে
১৯৮ নং লাইন: ১৯৫ নং লাইন:
[[বিষয়শ্রেণী:এশিয়ার রাষ্ট্র‎]]
[[বিষয়শ্রেণী:এশিয়ার রাষ্ট্র‎]]
[[বিষয়শ্রেণী:মধ্যপ্রাচ্য]]
[[বিষয়শ্রেণী:মধ্যপ্রাচ্য]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার সদস্য রাষ্ট্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সদস্য রাষ্ট্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইসলামি রাজতন্ত্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র ও অঞ্চল]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাহরাইন]]
[[বিষয়শ্রেণী:জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:আরব লিগের সদস্য রাষ্ট্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:আরব উপদ্বীপ]]
[[বিষয়শ্রেণী:আরবিভাষী দেশ ও অঞ্চল]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংরেজি ভাষী দেশ ও অঞ্চল]]
[[বিষয়শ্রেণী:দ্বীপ রাষ্ট্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাজ্য]]
[[বিষয়শ্রেণী:মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:নিকট প্রাচ্যের রাষ্ট্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:ছোট দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:পশ্চিম এশিয়ার রাষ্ট্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:সার্বভৌম রাষ্ট্র]]

০১:৪৩, ১৫ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

বাহরাইনের রাজ্য

مملكة البحرين
Mamlakat al-Bahrayn
জাতীয় সঙ্গীত:  بحريننا
Bahrainona
(আমাদের বাহরাইন)
বাহরাইনের অবস্থান
রাজধানীমানামা
সরকারি ভাষাআরবি
সরকারসাংবিধানিক রাজতন্ত্র
হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা
সাবিকা বিন্ত ইব্রাহিম
কালিফাহ্‌ ইবন সুলমান আল কালিফাহ্‌
স্বাধীন[১] 
• তারিখ
১৫ই আগস্ট ১৯৭১
• পানি (%)
জনসংখ্যা
• ২০০৯ আনুমানিক
৭৯১,০০০[২]
• আদমশুমারি
1,234,571[৩]
• ঘনত্ব
২,০০৭.১/কিমি (৫,১৯৮.৪/বর্গমাইল) (7th)
জিডিপি (পিপিপি)2018 আনুমানিক
• মোট
$100.922 billion[৪] (96th)
• মাথাপিছু
$51,956[৪] (13th)
জিডিপি (মনোনীত)2017 আনুমানিক
• মোট
$37.841 billion[৪] (98th)
• মাথাপিছু
$25,764[৪] (31st)
মানব উন্নয়ন সূচক (2015)বৃদ্ধি 0.824[৫]
অতি উচ্চ · 47th
মুদ্রাবাহারাইনী দিনার (BHD)
সময় অঞ্চলইউটিসি+৩
কলিং কোড৯৭৩
ইন্টারনেট টিএলডি.bh
  1. Includes 235,108 non-nationals (July 2005 estimate).

বাহরাইন মধ্যপ্রাচ্যের একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দ্বীপ রাষ্ট্র। বাহরাইন পারস্য উপসাগরের পশ্চিম অংশের ৩৬টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর পূর্বে কাতার ও পশ্চিমে সৌদী আরব। সবচেয়ে বড় দ্বীপটিও বাহরাইন নামে পরিচিত এবং এতে দেশটির বৃহত্তম শহররাজধানী মানামা অবস্থিত।

প্রায় ৫,০০০ বছর আগেও বাহরাইন একটি বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। সবসময়ই এটি শক্তিশালী প্রতিবেশীদের অধীনস্থ ছিল। ১৭শ শতকে এটি ইরানের দখলে আসে। ১৭৮৩ সালে মধ্য সৌদী আরবের আল-খলিফা পরিবার নিজেদেরকে বাহরাইনের শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এবং তখন থেকে তারাই দেশটিকে শাসন করে আসছে। ১৯শ শতকের কিছু সন্ধিচুক্তির ফলে যুক্তরাজ্য দেশটির প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব পায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত বাহরাইন ব্রিটিশ প্রভাবাধীন ছিল।

বাহরাইনের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি সেখানেই জন্ম-নেওয়া। এছাড়া বাহরাইনে শিয়া মুসলিমদের সংখ্যা সুন্নী মুসলিমদের প্রায় দ্বিগুণ। তবে সুন্নীরা বাহরাইনের সরকার নিয়ন্ত্রণ করেন।

১৯৩০-এর দশকে বাহরাইন পারস্য উপসাগরের প্রথম দেশ হিসেবে তেল-ভিত্তিক অর্থনীতি গঠন করে, কিন্তু ১৯৮০-র দশকের শুরুর দিকেই এর সমস্ত তেল ফুরিয়ে যায়। তবে দেশটি এই পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই অন্যান্য শিল্পে বিনিয়োগ করে রেখেছিল এবং দেশটির অর্থনীতি এখনও উন্নতি করে যাচ্ছে।বাহারাইনি দিনার বিশ্বের দ্বিতীয় সব থেকে দামি মুদ্রা।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
আড়াদে আরাদ দুর্গ; পর্তুগিজদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পূর্বে নির্মিত হয়েছিল।

বর্তমান বাহরাইন অঞ্চলে ব্রোঞ্জ যুগে দিলমুন নামক সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল। ৫ হাজার বছর আগেও বাহরাইন সিন্ধু অববাহিকা ও মেসোপটেমিয়ার সভ্যতাগুলির মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২০০০ অব্দের দিকে ভারত থেকে বাণিজ্য আসা বন্ধ হয়ে গেলে দিলমুন সভ্যতার পতন ঘটা শুরু করে। ৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে আসিরীয় রাজার বাহরাইনকে ক্রমাগত নিজেদের বলে দাবী করতে শুরু করে। ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কিছু পরে দিলমুন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। এরপর অনেক দিন যাবৎ বাহরাইনের কোন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না। খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে পারস্য উপসাগরে মহাবীর আলেকজান্ডারের পদার্পণ ঘটলে আবার এর হদিস পাওয়া যায়। যদিও আরব গোত্র বনি ওয়াএল এবং পারসিক গভর্নরেরা অঞ্চলটি শাসন করতেন, খ্রিস্টীয় ৭ম শতক পর্যন্তও এটি গ্রিক নাম তিলোস (Tylos) নামে পরিচিত ছিল। ঐ শতকে এখানকার অধিবাসীরা ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। বাহরাইন ছিল আঞ্চলিক বাণিজ্য ও মুক্তা আহরণ কেন্দ্র। ৭ম শতক থেকে বিভিন্ন পর্বে এলাকাটি সিরিয়ার উমাইয়া বংশীয় খলিফাগণ, বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফাগণ, পারসিক, ওমানি এবং পর্তুগিজদের দ্বারা শাসিত হয়। শেষ পর্যন্ত বনি উতবাহ গোত্রের আল খালিফা পরিবার ১৭৮৩ সালে ইরানীদের কাছ থেকে অঞ্চলটি দখল করে এবং তখন থেকে আজ পর্যন্ত তারা বাহরাইনের শাসক।

১৮৩০-এর দশকে আল খালিফা পরিবার একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাহরাইনকে একটি ব্রিটিশ প্রটেক্টোরেটে পরিণত করে, অর্থাৎ যুক্তরাজ্য বহিরাক্রমণ থেকে দেশটির সুরক্ষার দায়িত্ব নেয় এবং এর বিনিময়ে বাহরাইন যুক্তরাজ্যের অনুমতি ছাড়া অন্য কোন বিদেশী শক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ হারায়। বাহরাইনে বড় আকারে খনিজ তেলের উৎপাদন শুরু হবার কিছু পরেই ১৯৩৫ সালে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটিটি বাহরাইনে নিয়ে আসা হয়।

১৯৬৮ সালে যুক্তরাজ্য সরকার পারস্য উপসাগরের শেখশাসিত রাজ্যগুলির সাথে ইতোমধ্যে করা চুক্তিগুলি রদ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় বাহরাইন কাতার এবং বর্তমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৭টি শেখরাজ্যের সাথে মিলে একটি বৃহৎ সংযুক্ত আরব আমিরাত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ১৯৭১ সাল নাগাদ এই নয় রাজ্য সংযুক্তিকরণের বিভিন্ন ব্যাপারে একমত হতে পারেনি। ফলে ১৯৭১ সালের ১৫ই আগস্ট বাহরাইন একক রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

নতুন রাষ্ট্র বাহরাইনের জন্য একটি সংবিধান রচনা করা হয় এবং ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচিত হয়, কিন্তু মাত্র দুই বছর পরে ১৯৭৫ সালে বাহরাইনের আমির সংসদ ভেঙে দেন, কেননা নির্বাচিত সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আল-খলিফা শাসনের অবসান এবং মার্কিন নৌবাহিনীকে সেখান থেকে বিতাড়নের প্রচেষ্টা করছিল।

১৯৯০-এর দশকে বাহরাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া সম্প্রদায়ের অসন্তুষ্টি বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘাতের আকারে প্রকাশ পায়। এর প্রেক্ষিতে বাহরাইনের আমির প্রায় ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত, ১৯৯৫ সালে, বাহরাইনের মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনেন, এবং আইন পর্যালোচনাকারী কাউন্সিলের সদস্যসংখ্যা ৩০ থেকে ৪০-এ বৃদ্ধি করেন। এর ফলে সংঘাতের পরিমাণ প্রথমে কিছু কমলেও ১৯৯৬ সালের শুরুর দিকে বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁ-তে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে এবং এতে অনেকে নিহত হয়। পুলিশ প্রায় ১ হাজার লোককে এর জের ধরে গ্রেফতার করে এবং কোন বিচার ছাড়াই এদের শাস্তি দেয়া হয়। সম্প্রতি বাহরাইন সরকার এদের অনেককে ছেড়ে দিয়েছে।

বাহরাইন ১৯৭১ সালে স্বধীনতা লাভ করে। বাহার শব্দের অর্থ সাগর আর বাহরাইন হচ্ছে দু'টি সাগর। এটি একটি দ্বীপ রাষ্ট্র এর চারদিকে সাগর I

রাজনীতি

[সম্পাদনা]

বাহরাইনের রাজনীতি একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র কাঠামোতে সংঘটিত হয়। রাজা শাইখ হামাদ বিন ইসা আল খালিফা সরকার চালানোর জন্য একজন প্রশাসক নিযুক্ত করেন। বাহরাইনের আইনসভা দুই-কক্ষবিশিষ্ট। নিম্ন কক্ষের সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেন। ঊর্ধ্বকক্ষ তথা শুরা কাউন্সিলের সদস্যদের রাজা নিয়োগ দেন। বর্তমানে খালিফা ইবন সুলমান আল-খালিফা দেশের প্রধানমন্ত্রী। রাজপুত্র শাইখ সালমান বাহরাইনের সেনাবাহিনীর কমান্ডার।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ:

[সম্পাদনা]

ভূগোল

[সম্পাদনা]

বাহরাইন রাষ্ট্রটি আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে ২৪ কিমি দূরে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ৩২টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাষ্ট্র। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দ্বীপটির নাম বাহরাইন দ্বীপ। দ্বীপটির বেশির ভাগ অংশ মরুময় ঊষর নিম্নভূমি। কেবল উত্তরের উপকূলে এক চিলতে সমভূমি আছে যেখানে রাজধানী মানামা অবস্থিত।

অর্থনীতি

[সম্পাদনা]

বাহরাইনের অর্থনীতি প্রধানত পেট্টোলিয়াম উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও রিফাইনিং এর উপর নির্ভরশীল। এই খাত ৬০% রপ্তানিতে ও ৩০% জিডিপিতে অবদান রাখে। এদেশের শ্রমবাজারের ৫ ভাগের ৩ ভাগ দখল করে আছে বিদেশি শ্রমিকেরা। যোগাযোগব্যবস্থা ভাল হওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এখানে সদরদপ্তর স্থাপন করেছে। পর্যটন খাত অনেক উন্নতি সাধন করেছে। এই খাত জিডিপিতে ৯% অবদান রাখছে। শুধুমাত্র ১% ভূমি চাষযোগ্য হওয়ায় তারা প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজেরা উৎপাদনে অক্ষম। তারা এক্ষেত্রে আমদানির উপর নির্ভর করে। তাদের মাথাপিছু আয়ও অনেক বেশি। প্রায় ৫১,৯৫৬ মা.ডলার(২০১৭ অনুযায়ী)

জনমিতি

[সম্পাদনা]
মানামায় নামাজরত বাহরাইনি শিয়া মুসলমানেরা

২০১০ সালে বাহরাইনের জনসংখ্যা ১.২ মিলিয়ন হয়ে দাঁড়ায় যার মধ্যে ৫৬৮,৩৯৯ জন বাহরাইনি নাগরিক এবং ৬৬৬,১৭২ জন অনাগরিক।[৬] ২০০৭ সালে তা ১.০৫ মিলিয়ন (৫১৭,৩৬৮ অনাগরিক) অতিক্রম করে।[৭] ২০২০ সালের জানুয়ারি নাগাদ বাহরাইনের জনসংখ্যা ১.৬৯ মিলিয়নেরও উপরে গিয়ে দাঁড়ায়।[৮] যদিও জনসংখ্যার অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের লোক, তথাপি বাহরাইনিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দক্ষিণ এশীয়। ২০০৮ সালে প্রায় ২৯০,০০০ ভারতীয় নাগরিক বাহরাইনে বসবাস করেন, যা তাদের দেশটির একক বৃহত্তম প্রবাসী জনগোষ্ঠীতে পরিণত করে। এদের বেশিরভাগই ভারতের কেরল রাজ্য থেকে আগত।[৯][১০] বাহরাইন বিশ্বের চতুর্থ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যার জনসংখ্যার ঘনত্ব ২০১০ সালে ছিল প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,৬৪৬ জন।[৬] জনসংখ্যার একটি বড় অংশই দেশটির উত্তরাঞ্চলে বসবাস করে, দক্ষিণাঞ্চল তুলনামূলক কম জনবহুল।[৬] দেশটির উত্তরাঞ্চল এতটাই নগরায়িত যে অনেকে একে একটি বৃহৎ মেট্রোপলিটন এলাকা বলে বিবেচনা করে।[১১]

জাতিগোষ্ঠী

[সম্পাদনা]

বাহরাইনিরা জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময়। শিয়া বাহরাইনিরা দুটি প্রধান জাতিগোষ্ঠীতে বিভক্ত: বাহরানা এবং আজম। বাহরানারা হল আরব শিয়া, অন্যদিকে আজমরা হল পারসিক শিয়া। মানামা ও মুহররকের জনসাধারণের বড় অংশই পারসিক শিয়া। শিয়া বাহরাইনিদের একটি ক্ষুদ্র অংশ হল আল-হাসা অঞ্চলের হাওয়াসি জনগোষ্ঠী।

সুন্নি বাহরাইনিরাও মূলত দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত: আরব ও হুওয়ালা। আরব সুন্নিরা বাহরাইনের সবচেয়ে প্রভাবশালী জাতিগোষ্ঠী, তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত এবং বাহরাইনি রাজতন্ত্রও আরব সুন্নিদের নিয়ন্ত্রণাধীন। সুন্নি আরবেরা ঐতিহ্যগতভাবে জাল্লাক, মুহররক, রিফা ও হাওয়ার দ্বীপসমূহে বসবাস করে আসছে। হুওয়ালারা হল ইরানি সুন্নিদের বংশধর; তাদের কেউ কেউ পারসিক সুন্নি,[১২][১৩] আর বাকিরা আরব সুন্নি।[১৪][১৫] সুন্নিদের মধ্যে বেলুচি জাতিগোষ্ঠীর লোকেরাও রয়েছে। আফ্রিকান বাহরাইনিদের অধিকাংশই পূর্ব আফ্রিকা থেকে আগত এবং ঐতিহ্যগতভাবে মুহররক দ্বীপ ও রিফাতে বসবাস করে।[১৬]

বাহরাইনের ধর্মসমূহ[১৭]
[৬]
ইসলাম
  
৭০.৩%
খ্রিষ্টধর্ম
  
১৪.৫%
হিন্দুধর্ম
  
৯.৮%
বৌদ্ধধর্ম
  
২.২%
ইহুদিধর্ম
  
০.৩%
অন্যান্য ধর্ম
  
১%
অধার্মিক
  
১.৯%

বাহরাইনের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং অধিকাংশ বাহরাইনি মুসলমান। বাহরাইনি মুসলমানদের বেশিরভাগই শিয়া[১৮] এটি মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি শিয়াপ্রধান দেশের অন্যতম, অন্য দুটি দেশ হল ইরাকইরান[১৮] ২০১৭ সালের একটি আদমশুমারি অনুযায়ী বাহরাইনি জনগণের ৬২% শিয়া এবং ৩৮% সুন্নি[১৯]

বাহরাইনের মুসলিম জনগোষ্ঠী

  শিয়া (৬২%)
  সুন্নি (৩৮%)

শিয়ারা বাহরাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হলেও রাজপরিবার এবং অভিজাতদের বেশিরভাগই সুন্নি মতাবলম্বী।[১৯] দেশটির এই প্রধান দুই মুসলিম সম্প্রদায় কিছু ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তীব্র মতবিরোধ ধারণ করে।[১৯] শিয়ারা প্রায়শই রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অর্থনৈতিক প্রান্তীকরণের অভিযোগ তুলেছে; ফলে ২০১১ সালের বাহরাইনি অভ্যুত্থানের অধিকাংশ বিক্ষোভকারীই ছিল শিয়া।[২০][২১][২২]

২০১০ সালের আদমশুমারি মতে, বাহরাইনের মুসলিম জনসংখ্যা ৮৬৬,৮৮৮।

বাহরাইনে স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। ২০১০ সালের শুমারি অনুযায়ী অমুসলিম বাহরাইনিদের সংখ্যা ৩৬৭,৬৮৩, যাদের বেশিরভাগই খ্রিস্টধর্মাবলম্বী[২৩] বাহরাইনের খ্রিস্টানদের বড় অংশই প্রবাসী, স্থানীয় খ্রিস্টান বাহরাইনিরা সে তুলনায় সংখ্যালঘু। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত সাবেক বাহরাইনি রাষ্ট্রদূত আলীদ সামান একজন স্থানীয় খ্রিস্টান। বাহরাইনে একটি ক্ষুদ্র স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ও রয়েছে যাদের সংখ্যা ৩৭।[২৪] বিভিন্ন সূত্রমতে বাহরাইনি ইহুদিদের সংখ্যা ৩৬ থেকে ৫০।[২৫] বাহরাইনি লেখিকা ন্যান্সি খেদুরির মতে, বাহরাইনের ইহুদি সম্প্রদায় পৃথিবীর অন্যতম নবীন জনগোষ্ঠী। ১৮৮০-র দশকে তৎকালীন ইরাক ও ইরান থেকে বাহরাইন দ্বীপে অভিবাসন করা কয়েকটি ইহুদি পরিবার থেকে এই জনগোষ্ঠীর উৎপত্তিলাভ করে।[২৬]

মানামার গুদাইবিয়া মসজিদ

সাএশীয় দেশসমূহ থেকে, বিশেষত ভারত, ফিলিপাইনশ্রীলঙ্কা থেকে, আগত অভিবাসী কর্মীদের ক্রমাগত আগমনের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাহরাইনের সামগ্রিক মুসলিম সংখ্যার হার হ্রাস পেয়েছে। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, বাহরাইনের জনসংখ্যার ৮১.২% মুসলমান, ১০% খ্রিস্টান এবং ৯.৮% হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।[৬][২৭] বাহরাইনের জনসংখ্যার ১% বাহাই ধর্মাবলম্বী[২৮]

শিক্ষা

[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্য

[সম্পাদনা]

সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]

ইসলাম মূল ধর্ম এবং বাহরাইনীরা অন্যান্য ধর্মের অনুশীলনের প্রতি সহনশীলতার জন্য পরিচিত।বাহরাইনি এবং প্রবাসীদের মধ্যে বিবাহ অস্বাভাবিক নয়। ফিলিপিনো শিশু অভিনেত্রী মোনা মারবেলা আল-আলাওয়ের মতো অনেক ফিলিপিনো-বাহরাইনি রয়েছে।

মহিলাদের পোশাক সম্পর্কে বিধিগুলি সাধারণত আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের তুলনায় শিথিল করা হয়; মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক সাধারণত হিজাব বা আবায়ায় অন্তর্ভুক্ত থাকে। যদিও ঐতিহ্যবাহী পুরুষদের পোশাকটি থোবে যাতে কেফিয়েহ, ঘুতরা, তবে পশ্চিমা পোশাকগুলিও এ দেশে প্রচলিত। যদিও বাহরাইন সমকামিতাকে বৈধতা দিয়েছে।

সঙ্গীত

[সম্পাদনা]

বাহরাইনের সঙ্গীত অনেকটা এর প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের মতই। খালিজি (Khaliji) , এক প্রকার লোক সঙ্গীত সমগ্র বাহরাইন জুড়ে জনপ্রিয়। এছাড়া শহুরে ঘরানার সাওত (sawt) সঙ্গীতও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

আলি বাহার বাহরাইনের বিখ্যাত গায়কদের মধ্যে একজন। Al Ekhwa (আরবি অনুবাদ- দ্যা ব্রাদার্স) তার সঙ্গীত দলের নাম।

অ্যারাবস গট ট্যালেন্ট কর্তৃক ২০১১ সালে নির্বাচিত ক্ষুদে সংগীত শিল্পী হালা আল তুরক বাহরাইনে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাহরাইন ছাড়াও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে তার সমান জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়াও তার ইউটিউব মিউজিক ভিডিও সমূহ খুবই জনপ্রিয়।

উল্লেখ্য, পারসিয়ান গালফ স্টেটস সমূহের মধ্যে বাহরাইনেই সর্বপ্রথম recording studio স্থাপন করা হয়।

পরিবহন

[সম্পাদনা]

বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শহরের তথা দেশের প্রধান ও ব্যস্ততম বিমানবন্দর। এটি অন্যতম হাব বিমানবন্দর।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Bahrain ends special pact"The Straits Times। ১৫ আগস্ট ১৯৭১। 
  2. Department of Economic and Social Affairs Population Division (2009). "World Population Prospects, Table A.1" (.PDF). 2008 revision. United Nations. Retrieved on 2009-03-12.
  3. "Bahraini Census 2010 – تعداد السكــان العام للبحريــن 2010"। ২০ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৮ 
  4. "Bahrain"। International Monetary Fund। 
  5. "Human Development Report 2015" (পিডিএফ)। United Nations। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  6. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; 2010-census নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  7. "Bahrain's population crossed 1m in December"। Gulfnews.com। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০১২ 
  8. https://www.worldometers.info/world-population/bahrain-population/  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  9. "290,000 Indians in Bahrain"। Gulf-daily-news.com। ৫ জুলাই ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১০ 
  10. "Indian Community"। Indian Embassy। ৭ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১২ 
  11. "Bahrain: metropolitan areas"। World Gazetteer। ২৩ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২০ 
  12. "Two ethnicities, three generations: Phonological variation and change in Kuwait" (পিডিএফ)Newcastle University। ২০১০। পৃষ্ঠা 11। ১৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  13. Dialect, Culture, and Society in Eastern Arabia: Glossary. Clive Holes. 2001. Page 135. আইএসবিএন ৯০-০৪-১০৭৬৩-০
  14. Rentz, "al- Baḥrayn.":
  15. Rentz, G. "al- Kawāsim." Encyclopaedia of Islam. Edited by: P. Bearman, Th. Bianquis, C.E. Bosworth, E. van Donzel and W.P. Heinrichs. Brill, 2008. Brill Online. 15 March 2008 [১][স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  16. "Bahrain's Rainbow Nation in Manama"। HotelTravel.com। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  17. Pew Research Center's Religion & Public Life Project: Bahrain. Pew Research Center. 2020.
  18. "Sunnis and Shia in the Middle East"BBC News। Mapping the Global Muslim Population। ডিসেম্বর ১৯, ২০১৩। 
  19. David Pollock (নভেম্বর ২০, ২০১৭)। "Sunnis and Shia in Bahrain: New Survey Shows Both Conflict and Consensus"Fikra ForumWashington Institute for Near East Policy 
  20. Andrew England (অক্টোবর ৩, ২০১৮)। "Shia complain of exclusion from Bahrain's political process"Financial Times 
  21. Andrew England & Simeon Kerr (অক্টোবর ১, ২০১৮)। "Bahrain's Shia loath to give Sunni rulers election credibility"Financial Times 
  22. "An unfair election in Bahrain will not satisfy the Shia majority"Economist। নভেম্বর ২২, ২০১৮। 
  23. "2010 Census Results"। ২০ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১২ 
  24. Chana Ya'ar (২৮ নভেম্বর ২০১০)। "King of Bahrain Appoints Jewish Woman to Parliament"। Arutz Sheva। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১০ 
  25. Habib Toumi (৪ এপ্রিল ২০০৭)। "Bahrain defends contacts with US Jewish body"gulfnews.com 
  26. Khedouri, Nancy Elly. (২০০৭)। From our beginning to present day--। Bahrain: Al Manar Press। আইএসবিএন 978-99901-26-04-4ওসিএলসি 164870788 
  27. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; CIA নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  28. "Roundup on status of Baha'is in Muslim-majority countries"। The Muslim Network for Baha'i Rights। ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৩ 

4. http://www.everyculture.com/A-Bo/Bahrain.html

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]